বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
নিরপরাধ নন, এবার হাত পড়ছে প্রকৃত অপরাধীর ঘাড়ে!
অনলাইন ডেস্ক
গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় যারা প্রকৃত অপরাধী, শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “গণগ্রেপ্তার বলে যেটা প্রচার হচ্ছে, সেটা বাস্তব নয়। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।”
রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা গোয়েন্দা ও প্রশাসনের কাছ থেকে গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার সর্বশেষ আপডেট নিয়েছি। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। সহিংসতা অনেকটাই কমেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার রেশ থাকলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে।”
গণমাধ্যমকে তিনি জানান, “গোপালগঞ্জে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সেখানকার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। কারফিউ ইতোমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ১৪৪ ধারাও খুব শিগগিরই তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
হরতাল পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। “এবারের হরতালগুলোতে সহিংসতা ও নাশকতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশলী ও সহনশীল ভূমিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটা গণতন্ত্রেরই এক বাস্তব উদাহরণ।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র মানে মিথ্যা প্রচার নয়, সত্য ভাষণের মাধ্যমে মত প্রকাশ। কেউ অন্যায় করলে শাস্তি পাবেন, কিন্তু যাদের দোষ নেই—তাদের যেন হেনস্তা না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা কাজ করছি।”
গোপালগঞ্জে শিশুদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেনারেল জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার কাছে এমন কোনো সত্যতা নেই। আমরা বারবার বলে আসছি—পুরোনো আমলের মতো গণগ্রেপ্তারের কোনো নীতি এখন নেই। যারা দোষী, তাদের প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”